সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান আবার যুদ্ধের মুখোমুখী দাঁড়িয়েছে। ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধুর পানি প্রবাহ ভারত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তান কোন রাখ-ঢাক ছাড়াই যুদ্ধের হুমকী দিয়েছে ।
ভারত যদি সিন্ধু নদীর পানি প্রবাহ বন্ধের ঘোষণা থেকে সরে না আসে, তাহলে শীঘ্রই পাক-ভারত যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে।
ভারত যদি আটকে রাখা সিন্ধু নদীর পানি প্রবাহ ছেড়ে না দেয়, তাহলে পাকিস্তান সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে বলে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের এই হুমকীকে ঘিরে যে কোন সময় আবার পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে ভারত পানির প্রবাহ আটকে রেখেছে ভারত।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু চুক্তি সই হয়েছিল। তা ভারত স্থগিত করার পর থেকেই একাধিক অভিযোগ করে এসেছে পাকিস্তান।
সিন্ধুর পানি প্ররবাহ আটকে রাখলে ভারতের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধের হুমকী দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। এ বারেও নয়াদিল্লির সঙ্গে সংঘাতের কারণ হিসাবে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন তিনি। এই চুক্তির লঙ্ঘনকে কার্যত পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন ।
রবিবার পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “পানি আমাদের জাতীয় সুরক্ষারই অংশবিশেষ। যদি আমাদের মনে হয় যে, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা হলে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধের পথে হাঁটব।”
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, পাকিস্তান তীব্র পানি সঙ্কটে ভুগছে। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও পানির প্রবাহ আটকে রেখেছে ভারত। ভারত এই অবস্থা বহাল রাখলে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন আসিফ।
২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে হামলার পরে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন, রক্ত এবং জল একই সঙ্গে বইতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য। পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার পানিতে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে।
কিন্তু পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসাবে এই চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত।
ভারতের জলশক্তি বিষয়কমন্ত্রী সিআর পাতিল বলেছেন, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধুর পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভারতের এই কথা শোনর পরই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের হুমকী দিলেন। পাকিস্তানের এই যুদ্ধের হুঁশিয়ারিকে ভারত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই হিসেব করছে।
Leave a Reply