ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের কচুকাটা করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে সেখানকার মাদরাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যে সব মাদরাসা সরকারের অনুমতি নিয়ে মাদরাসায় হিন্দু ধর্মের বেদ,গীতা,মহাভারত পড়াতে রাজি হয়েছে, শুধু সেগুলো রেখে বাঁকী সব মাদরাসা বন্ধ করা হবে।
বিজেপি ক্ষমতায় এসেই মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযান চালাচ্ছে । প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের আড়াই হাজার মাদরাসা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ইতমধ্যেই ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিস জারি করেছে সরকার। আরও ১০০ মাদ্রাসাকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য শোকজ করা হয়েছে। এই মাদ্রাসাগুলির বেশিরভাগই ‘খারিজি মাদ্রাসা’ বলে পরিচিত।
গত ২২ জুলাই কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে সমীক্ষা চালায় রাজ্য সরকারের ‘সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট বলা হয় রাজ্যের প্রায় ২ হাজার ৩৯৬ টি মাদ্রাসায় সরকারি অনুমোদন নেই।
মাদ্রাসাগুলির বর্তমান পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পরেই অনুমোদনহীন মাদরাসাগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে ‘সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’।
এর আগে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই জেলায় জেলায় শুরু হয় মাদরাসা কুঁজে বের করার অভিযান।
অভিযানের প্রথম দফায় খুঁজে পাওয়া ২৫২ টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা এখনই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া নোটিসের কপি।
অন্যদিকে, যে সমস্ত মাদ্রাসাগুলিকে শোকজ করা হয়েছে, সেই সমস্ত মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার। সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, “কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের ২২টি জেলার সব মাদ্রাসা থেকে নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যে সমস্ত মাদ্রাসার অনুমোদন রয়েছে তা সেগুলি চালু রয়েছে।” বাঁকীগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “বহুবার মাদ্রাসা নিয়ে আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে।েসেই সব অভিযোগের তদন্ত চলছে। যেখানে সেখানে মাদ্রাসা খুলে উৎপাত করার অনুমতি দেবে না সরকার। সেই জন্যই মাদরাসাগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।”
……………………………………………
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
১৩সেপ্টেম্বর ২০২৬
……………………………………………
Leave a Reply