ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের মরনোত্তর ফন্দি-ফিকির এবং রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীল প্রথম আলোর জঙ্গীজিকির

Reporter Name
    সময় : সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
  • ৪৯ Time View
এফ শাহজাহান :
মরহুম ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক নিপাট ভদ্রলোক ছিলেন,তাতে কোন সন্দেহ নেই। ভদ্রলোকের জ্ঞান-বুদ্ধিও যথেষ্ট প্রখর ছিলো। কিন্তু তিনি জামায়াতের ভুল ধরতে পারলেও নিজের ভুলটা ধরতে পারেননি। এখানেই তার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বেচারা বুঝতেও পারেননি যে, তিনি ভারতের গোয়েন্দা জালে আটকে গেছেন। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।
আজ তিনি বেঁচে থাকলে তার লেখা বই নিয়ে রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীল আর প্রথম আলোর জঙ্গীজিকির দেখে ঠিকই বুঝতে পারতেন যে, তিনি দুষমনদের ফাঁদে আটকা পড়েছিলেন। সে জন্য তার মৃত্যুর পর তার লেখা বই প্রকাশ করা হয়েছে এবং দেশবিরোধী ইসলাবিরোধীরা জোট বেঁধে তাকে প্রসংশায় ভাসাচ্ছে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মৃত্যুর পর তার লেখা বেই নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে নতুন বয়ান খাড়া করার জন্য রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীল আর প্রথম আলো যে জঙ্গীজিকির শুরু করেছে, তা বিশ্লেষনের বহুত ফায়দা আছে।
জামায়াত একাত্তুরে কোন ভুল করেনি। জামায়ত একাত্তরে খুন-ধর্ষন অগ্নিকান্ডেও ঘটায়নি। ফ্যা.সিস্ট হাসিনার মতো গণহত্যাও চালায়নি। জামায়াতের বিরুদ্ধে এরকম কোন আপরাধের কেউ এক ফোটা প্রমানও দিতে পারেনি।
নিজের দেশের অখন্ডতা রক্ষা করতে চাওয়া ভুল নয়। ব্রাহ্মন্যবাদী ভারতের আধিপত্যবাদ অস্বীকার করা কোনভাবেই ভুল নয়। রামরাজত্বের গোলামী মেনে নেওয়া কখনোই একজন ইমানদারের পক্ষে সম্ভব নয়।
কাজেই জামায়াত একাত্তরে যা করেছে, তা সঠিক করেছে। ভুল করলে,দোষ করলে, সেটা পাকিস্তানের সৈন্য-সামন্তরা করেছে। জামায়াত করেনি।
একাত্তারে জামায়াতের যে ভুমিকা, সেটা জামায়াতের কোন সমস্যা নয়। এটা ভারতের দালালদের সমস্যা। তাই,যারাই একাত্তরে জামায়াতের ভুমিকাকে ভুল মনে করে, এরা সবাই ভারতের দালাল। এদের কেউ জেনে বুঝে,আর কেউ আবেগের চোটে ভারতের দালালী করে। এদের পেছনে ডুগডুগি বাজায় দেশবিরোধী প্রথম আলো-দিল্লীস্টার এবং রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীলরা ।
জামায়াতকে ঠেকানোর সব অপচেষ্টা যখন বন্ধ হয়ে যায়,তখন ভারতের দালালরা জামায়াতের হামদর্দী ভাব নিয়ে মশহুর শুভাকাঙ্খী সাজে। এরপর তারা জামায়াতের জন্য বুকফাটা দরদ নিয়ে মাত্র দুইটা পরামর্শ দেয়।
(ক) একাত্তরের ভুমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং
(খ) জামায়াতের নাম পরিবর্তন করা।
জামায়াতকে ধ্বংস করার জন্য এই দুইটি কাজই যথেষ্ট। জামায়াত যদি কখনো এই দুইটি কাজ করে,তাহলেই জামায়াত ধ্বংস হয়ে যাবে।
জামায়াত একাত্তরের জন্য যতবার ভুল স্বীকার করবে রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীলরা ততবারই জামায়াতের বিরুদ্ধে নতুন নতুন বয়ান খাড়া করবে। জামায়াত ভুল না করলেও যদি কেয়ামত পর্যন্ত একাত্তরের ভুল স্বীকার করতে থাকে,তাহলে রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীলরা কেয়ামত পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে বয়ান খাড়া করবে। কাজেই ঐ চ্যাপ্টার ক্লোজ।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মতো সজ্জনকে দিয়ে ভারতের ইনটেলিজেন্স এই কাজটাই করানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। পরে তাদের নীলনকশা ব্যর্থ হওয়ায় জামায়াতকে ধ্বংস করার জন্য রাজ্জাক আর মঞ্জুকে লেলিয়ে দিয়ে এবি পার্টি বানিয়েছিল।
যারা একাত্তরের ভুমিকার জন্য জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়ার নসিহত করেন, তাদেরকে যদি পিটাইয়া পিঠের চামড়া তুলে ফেলেন,তবু কিন্তু তারা কখনোই বলবে না যে, বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমা চাইতে হবে। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের জন্য শেখ মুজিবকে ক্ষমা চাইতে হবে।
এই ভারতের দালালরা কখনোই বলবে না যে, চব্বিশের গণহত্যা, নির্বিচারে নিরপরাধ নারী-শিশুদের হত্যা, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে ২ হাজার মানুষ হত্যা আর পঞ্চাশ হাজার মানুষকে পঙ্গু করার জন্য ফ্যা.সিস্ট হাসিনার ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এরা কোনদিন বলেবে না যে, বাছাই করা রাজাকারদের নিয়ে দল গঠন করা এবং রাজাকারদের প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রী বানানার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়িাউর রহমানকে মরনোত্তর ক্ষমা চাইতে হবে।
এরা কোনদিনও বলবে না যে, যুদ্ধাপরাদীদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন এবং রাজাকারদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার জন্য আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরনোত্তর ক্ষমা চাইতে হবে।
জামাতের ভুল করার সুযোগ নেই। কারণ, জামায়াত কখনোই একক কোন ব্যাক্তির সিদ্ধান্তে চলে না। জামায়াত পরিবারতন্ত্রে-মন্ত্রে চলে না। জামায়াত আমীরের কদমবুচি করে কাউকে জামায়াতের নেতা-কর্মী বা রুকন হতে হয় না। বরং তারা জামায়াতের আমীরের হাতে হাত রেখে দ্বীন কায়েমের জন্য নিজের জান আর মাল কুরবানী করার শপথ নিয়ে জামায়তবদ্ধ হয়।
জামায়াত সকলের পরামর্শের ভিত্তিতে সামষ্টিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই জামায়াতের সিদ্ধান্ত কোন একজন বা গুটিকতক মানুষের সিদ্ধান্ত নয়।
একারনে আপাত দৃষ্টিতে জামায়াতের কোন সিদ্ধান্তকে ভুল মনে হলেও, পরে সেটি সঠিক প্রমানিত হয়েছে। জামায়াতের এখনকার কোন সিদ্ধান্ত আপাত ভুল মনে হলেও একশ বছর পরে হলেও সেটি সঠিক প্রমানিত হবে। কারণ সিদ্ধান্ত কোন ব্যক্তির নয়,সমষ্টির।
ব্যারিষ্টার রাজ্জাকের ৩টি প্রধান ভুল ছিলো। সেগুলো হলো-
প্রথমত : নিজের মতামতকেই সঠিক মনে করা
জামায়াত একজনের কথায় কোন সিদ্ধান্তহ নেয় না। সামষ্টিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কাজেই ব্যারিষ্টার রাজ্জাক সাহেব ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতকে যে সব পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেগুলো শুরা বা সামষ্টিক ফোরামে গৃহিত হয়নি বলেই জামায়াত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নিজের মতামত দল গ্রহণ করেনি বলেই চরম দু:সময়ে জামায়াতের পিঠে ছুরি মেরে দল ত্যাগ করে আরেকটা দল গঠন করতে যাওয়া ছিলো ব্যারিষ্টার রাজ্জাকের সবচেয়ে বড় ভুল। নিজের মতামতকেই সঠিক মনে করার কারণেই তিনি এই ভুলটা করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত : দলের নাম পরিবর্তনের আত্মঘাতি পরামর্শ
যারা মনে করছেন, ‘জামায়াত ইসলামী’ নামের কারণেই ভারতের দালাল এবং ইসলামবিরোধী শক্তিগুলো জামায়াতের বিরোধীতা করে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জামায়াতের বিরোধীতা হয় তাদের মৌলিক আক্বীদা বিশ্বাস এবং জনগণের স্বার্বভৌমত্বের পরিবর্তে আল্লাহর স্বার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ঘোষণার কারণে। এরা নুঝতে পারে না যে, জামায়াত যদি নাম পাল্টিয়ে ‘নিখিল ভারত সনাতনী সংঘ’ নাম রাখে এবং তাদের আক্বীদা-বিশ্বাস এবং আল্লাহর দ্বীন কায়েমের এজেন্ডা ঠিকই রাখে; তাহলে একই বিপদে পড়বে সেই ‘নিখিল ভারত সনাতনী সংঘ’। কাজেই জামায়াতের নাম পাল্টানোর প্রস্তাবটা হচ্ছে জামায়াতকে ধ্বংস করার একটা গভীর চক্রান্ত। এটা মূলত মাথাব্যাথা সারানোর জন্য মাথা কেটে ফেলার পরামর্শের সামিল।
তৃতীয়ত : দু:সময়ে জামায়াতের পিঠে ছুরি মারা
জন্মের পর থেকে রাম-বাম-আওয়ামী লীগ কিংবা ভারতের দালাল আর ইসলামের দুশমনরা জামায়াতের যতোটা ক্ষতি করতে পারেনি,ব্যারিষ্টার রাজ্জাক আর মঞ্জু মিয়া জামায়াতের সেই ক্ষতি করেছে। তারা এমন এক দু:সময়ে জামায়াতের পিঠে ছুরি মেরেছে তা চিন্তা করলেও গা শিউরে ওঠে।
ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক বেঁচে থাকতে জামায়াতের যে ক্ষতিটা করতে পারেননি, মরে গিয়ে সেই ক্ষতি করে ফেলবেন। তার মানে, রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীলরা তাকে ব্যবহার করে,তার বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বয়ান খাড়া করবে। এটা হচ্ছে ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকে নিয়ে মরনোত্তর ষড়যন্ত্র।
মরহুম ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বই নিয়ে রাম-বাম-বাঙ্গু সুশীলরা যেভাবে মুখে ফেনা তুলতেছে, প্রথম আলো যেভাবে ‘প্রিমিয়াম কভারেজ’ দিচ্ছে, তাতে বুঝাই যাচ্ছে যে, মরহুম ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক তাদেরই পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।
ভদ্রলোক জীবিত থাকতেই তার বইটি প্রকাশ না করে মৃত্যুর পর বইটি প্রকাশ করার মধ্যেও একটা ফন্দি-ফিকির আছে। কারণ, ভারতের দালালদের সুবিধামত এখন যা ইচ্ছা তাই ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের নামে চালিয়ে দেওয়া যাবে। সেইটা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের কথা, নাকি রাম-বাম-বাঙ্গুসুশীল আর প্রথম আলোর জঙ্গীজিকিরের এজেন্ডা, তা বলার কেউ নেই,প্রমান করারও কেউ নেই।
…………………………………………
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
………………………………………….

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com