যারা তিন শর্ত মানবে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই : আমীরে জামায়াত

Reporter Name
    সময় : শনিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
  • ২৫২ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনে আমরা ১০টি দল একত্রিত হয়েছি। এর অর্থ আমরা দশে মিলে দেশটা গড়তে চাই। মাত্র তিনটি শর্ত মানলে অন্যদেরকেও ওয়েলকাম । আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাই।

এক নাম্বার শর্ত-নিজে দুর্নীতি করবেন না, দুর্নীতিবাজদের বগলের নিচে আশ্রয় দেবেন না। দুই নাম্বার শর্ত ন্যায় বিচার সকলের জন্য নিশ্চিত করা হবে। কোন রাজনৈতিক দল কিংবা যত প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক বিচারের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবেন না। বিচারকে তার আপন গতিতে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। বিচার আর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হবে না। রাজনৈতিক কারণে প্রভাবিত হবে না। তিন নাম্বার শর্ত হচ্ছে গণভোটে হ্যা ভোটের পক্ষে থাকতে হবে। ওয়াদা করতে হবে সংস্কারের সবগুলো প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করার।

এই তিন শর্ত যারা মানবেন আমরা তাদেরকে সাথে নিয়ে দেশ চালাতে চাই। আমরা বিভক্তের বাংলাদেশ চাই না। আমরা ঐক্যের বাংলাদেশ চাই। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খাছের মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানএসব কথা বলেন। জামায়াতে আমীর এসময় আরো বলেন, চাঁদার জ্বালায় অতিষ্ট জনগণ। এই চাঁদার কারণেই কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। চাদাবাজরা মাঝখানে ভাগ বসিয়ে দেয়। এর ভাড় গিয়ে পড়ছে জনগণের ঘাড়ে। আমরা শহীদদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করবো। আমরা দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, আমরা চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, মায়েদের ইজ্জতের মূল্য আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি। মায়েদের অপমান আমরা বরদাশত করবো না। কোন লম্পটের জায়গায় বাংলাদেশে হবে না। এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। এই মায়েরা থাকবে সম্মানে, নিরাপদে। রাস্তায় বের হলে নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। দেশ গড়ার কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অবদান রাখবে ইনশাআল্লাহ। যাদের মেধা ও যোগ্যতা আছে তাদের সম্মানজনক কর্মক্ষেত্র তৈরি করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা যুবকদের কোন বেকার ভাতা দিতে পারবো না। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না।

বাংলাদেশকে আমরা বেকারে ফ্যাক্টরি বানাতে চাই না। আমরা প্রত্যেকটি যুবক-যুবতীর হাতকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিণত করতে চাই। পড়াশোনা শেষে প্রত্যেক যুবক-যুবতীর হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই। আমরা যুবকদের বেকারের মিছিলে দেখতে চাই না।

তিনি বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম হিংসার কবলে পড়ে গেছে তাই এখানে আর খেলা হয় না। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে মর্যাদার সাথে চান্দু স্টেডিয়ামকে আবার জীবন দেয়া হবে। আবার আন্তর্জাতিক খেলা এখানে হবে ইনশাআল্লাহ।

বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী উল্লেখ করে জামায়াতের আমীর আরও বলেন, আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, এই বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব। বহু জায়গায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। আজও বগুড়ায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠল না। আল্লাহ যদি আমাদের সেই সুযোগ দেন, এটাও আমরা বাস্তবায়ন করব। মোটাদাগে এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি যমুনার দ্বিতীয় সেতু, এটা বগুড়াবাসীর দাবি। এটা পাশের গাইবান্ধারও দাবি। আমরা এটা যৌক্তিক দাবি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করব। এটা কোনো দয়ার দান নয়। জামায়াতে ইসলামী দলীয় তহবিল দিবে না। এটা আপনাদের টাকা দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা সাড়ে ১৫ বছরে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব পেটের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনার। এটা জনগণের টাকা। জনগণের জন্য উন্নয়ন খাতে এটা এসে যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ার সব আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক তুলে দেন।

বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এছাড়া বগুড়ার ৭টি আসনের জামায়াতের প্রার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। এর আগে বগুড়ার মোকামতলায় এবং পরে শেরপুরে পথ সভায় বক্তব্যদের ডা. শফিকুর রহমান।

বগুড়ার মোকামতলার জনসভায় আমীরে জামায়াত
মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “স্বাধীনতার পরে কোনো সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না আমার সরকারটি ন্যায়পরায়ণ ও দুর্নীতিমুক্ত ছিলো। একটা সরকারও বলতে পারবে না। এমপি হওয়ার আগে শ্বশুর বাড়িতেও সম্পদ ছিলো না, নিজেরও সম্পদ ছিলো না। কিন্তু এমপি হওয়ার পর দেখা যায় লাফিয়ে লাফিয়ে শ্বশুর বাড়ির সম্পদ বাড়ে। সালির সম্পদ, সালার সম্পদ, ভায়েরার সম্পদ, শ্বাশুড়ির সম্পদ শ্বশুরের শ্বশুর যিনি তারও সম্পদ বাড়ে। জনগণের টাকা চুরি করে, লুণ্ঠন করে, ডাকাতি করে। ব্যংকের টাকাও ডাকাতি করে। এই ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত সাড়ে ১৫ বছরে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের পাঁচ গুণ। পুরো ৫ বছরের বাজেট চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই ধরনের লোক এই কাজ করেছে। তারা হলো কিছু রাজনৈতিক দুর্বিত্ত ও যারা রাষ্ট্রের পরিসেবায় নিয়োজিত ছিল।”তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর এক এক করে ৫৪ বছর কেটে গেলো। এই ৫৪ বছরে আমরা যে বাংলাদেশটা চেয়েছিলাম, সেই বাংলাদেশ পাইনি। ওই বাংলাদেশ যদি থাকতো, তাহলে আজকে লাখো শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হত না, আজকে অপুষ্টিতে লাখো শিশুর শরীর থেকে হাড্ডিগুলো বেরিয়ে আসত না। আজকে মা ও বোনেরা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাদের বুকটা ধুক ধুক করে কাপত না। তারা ভাবত এটিই আমার নিরাপদ বাংলাদেশ। এটিই স্বাধীন বাংলাদেশ।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আজকের বিচার ব্যবস্থা পয়সার বিনিময়ে প্রভাবিত হয়, ক্ষমতার গরমের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়। আজকে গরীবের কোনো বিচার নাই। নিরবে কেঁদে কেঁদে শেষ হয়ে যায়। একানব্বই ভাগ মুসলমানদের দেশে এটা তো হওয়ার কথা ছিলো না। স্বাধীন বাংলাদেশে এটা হওয়ার কথা ছিলো না। কারা করেছে? এখানে কি অন্য দেশের জঙ্গল থেকে জ্বিন ভুতেরা এসে করেছে? এই দেশের মানুষেরাই করেছে। এই দেশের মানুষ যুগে যুগে সুন্দর সুন্দর কথা বলে নির্বাচনের সময় যারা আপনার আমার ভোট পেতেছিলো, তারা ৫৪টি বছর জাতিকে এইভাবে শোষণ করেছে, জাতির ওপর তারা নির্যাতন চালিয়েছে। কখনো একটু বেশি কখনো একটু কম।”তিনি আরও বলেন, “গত সরকার সুন্দর করে বলেছিলেন, আমরা বাংলাদেশকে কানাডা এবং সিঙ্গাপুর বানাবো। তা কি বানিয়েছে? কিন্তু আমরা কানাডাও বানাবো না, সিঙ্গাপুরও বানাবো না। আমরা আমাদের মায়ার, প্রত্যাশার, নিরাপদ ও অগ্রগতির বাংলাদেশ বানাবো ইনশাআল্লাহ।

আমরা নিজে দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেবো না। আমরা নিজে চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে চাঁদাবাজি করতেও দেবো না। আমাদের পরিষ্কার অঙ্গীকার, আমরা সবার জন্য বিচার ব্যবস্থা সমান করবো ইনশাআল্লাহ।”

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি ও বর্তমান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান।

পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হক সরকার।

বগুড়ার শেরপুরের জনসভায় আমীরে জামায়াত
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের পাথর মেরে হত্যা , চাঁদাবাজি, দখল–বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই জনগণকে আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝতে পারবে।

শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর কলোনী খেলার মাঠে উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। এমন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলের প্রতীকের পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করে গণভোটে হ্যাঁ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। জামায়াত নারীদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চায়। কর্মক্ষেত্রে তারা সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটে চলাফেরায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করছে জামায়াত। তিনি বলেন, বারবার ষড়যন্ত্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্ছিত করা হয়েছে। আগামীতে জামায়াতের নেতৃত্বে সৎ, দক্ষ ও দেশ প্রেমিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে। চুরি করতে দেওয়া হবে না। নদীগুলো খুন করা হয়েছে। আমাদের জোট ক্ষমতায় গেলে শুধু নদী নয় উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু সমাধান হবে না। আমার কাছে কোন কার্ড নেই। আমরা আপনাদের ভালোবাসার কার্ড চাই।ড. শফিকুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে চাই, এই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর যথেষ্ট হবে। আমরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, তাহলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে ইনশাল্লাহ। এই এলাকার মাটি উর্বর, এই এলাকা পিছিয়ে থাকার কোন প্রশ্নই উঠে না। ষড়যন্ত্র করে, বঞ্চিত করে, পিছনে রাখা হয়েছে।

বক্তব্য শেষে তিনি বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের জোটের প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্র্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান।

শেরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিধ নাসিমের সঞ্চালনায় পথসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম,বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় স্পোটস সম্পাদক হারুনর রশীদ রাফি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল,এসিপির উত্তরাঞ্চল যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহাদি, বগুড়া জেলা পূর্বের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ প্রমুখ।

রংপুরের পীরগঞ্জের জনসভায় আমীরে জামায়াত
পীরগঞ্জ(রংপুর)সংবাদদাতা: শোষণমুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত একটি মানবিক দেশ গঠনে তিনি তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, এক ইঞ্চি জমির সম্মান আমরা কারো কাছে বন্ধক রাখবো না, জীবন যাবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। আবু সাঈদরা যেভাবে দেশের জন্য বুক পেতে দিয়ে ছিল সেভাবে বুক পেতে দেব। আবু সাঈদের আমানত রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।

গতকাল শনিবার সকাল ৮ টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন এজেন্ডা নাই, ৫ অগষ্টের পর আপনারা দেখেছেন, আমরা কোন চাঁদাবাজি করি নাই, দখল দারি করি নাই, দূর্নীতি এবং কারো বিরুদ্ধে মামলা করি নাই, কাউকে হয়রানি কারো উপর হামলা করি নাই, বরং আমরা চেয়েছি শান্তির বাংলাদেশ গঠনের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আমরা ১০ দলীয় জোট গঠন করেছি। এই দশ দলীয় জোটের আপনাদের এই আসনের এমপি প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক মওলানা মোঃ নুরুল আমিন কে আপনাদের কাছে আমানত রেখে গেলাম। আপনারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী করবেন ইনশাআল্লাহ।

এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ আব্দুল হালিম, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ সিবগাতুল্লাহ,এন সি পির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের রংপুর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. এনামুল হক, উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মওলানা মো. মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ আব্দুল আজিজ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জনসভায় আমীরে জামায়াত
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: “বেকার ভাতা বেকার তৈরির কারখানা। বেকাররা ভাতা চায় না, তারা চায় সম্মানজনক কর্মসংস্থান” এভাবেই বেকারত্ব নিরসনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন,“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে যদি আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন এবং জনগণের সহযোগিতায় সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে আমরা বেকারদের ভাতা দিয়ে অলস করে রাখবো না। বরং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের যোগ্য করে গড়ে তুলে বাস্তবমুখী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো;ইনশাআল্লাহ।”তিনি আরও বলেন,“এই দেশ তরুণদের। পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা ও দক্ষতা থাকলে বেকারত্ব কোনো সমস্যা নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে কর্মক্ষম মানুষকে কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।”

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবা।এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর ও গাইবান্ধা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেশ, এবি পার্টির জেলা সভাপতি খায়রুল আলম, খেলাফত মজলিশ নেতা শাহ আলম ফয়েজী, সাদুল্লাপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর এরশাদুল হক ইমন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ফেরদৌস রুম্মানসহ ১০ দলীয় ঐক্য জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com