বগুড়ার উপনির্বাচনকে আরেকটি মাগুরা হতে দেওয়া হবে না : জামায়াত প্রার্থী

Reporter Name
    সময় : শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
  • ৮৪ Time View
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনের প্রচারনায় সরকার দলীয় নেতাকর্মিদের বাধা প্রদানের অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান বলেছেন, বিএনপি বগুড়ায় আরেকটি মাগুরা মার্কা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। প্রশাসন বিএনপির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আমলে নিচ্ছেনা। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ না করলে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ৯ এপ্রিলের উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করা হলে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।
আসন্ন উপ-নির্বাচনের প্রচারনায় ক্রমাগত আচরণ বিধি লংঘন এবং প্রশাসনের নিরব ভূমিকার বিরুদ্ধে শনিবার দুপুরে বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বত্তব্যে আবিদুর রহমানর সোহেল বলেন, “আমি উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর বিগত ১২/০৩/২৬ তারিখে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততোই বিরোধী পক্ষ ধানের শীষ মার্কার লোকজন নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে।
শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ আমার মহিলা কর্মী মাজেদা বেগমের বাড়ীতে দুইবার গিয়ে হুমকি দিয়ে হাত পা ভেঙ্গে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি সেক্রেটারি মিজানুর করিম মাসুদ আমার দলীয় কর্মীদেরকে বাড়ী বাড়ী গিয়ে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করছে এবং খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে।
২০ নং ওয়ার্ডে আমার উঠান বৈঠক করার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা হাতকাটা শম্বুর নেতৃত্বে সমাবেশ পন্ড করতে হুমকি ধামকি প্রদান করে এবং সমাবেশের পাশেই মাইক বাজিয়ে সমাবেশ পন্ড করে। এরুলিয়া এলাকায় আমার মহিলা কর্মী নাজনিন আক্তারকে বিএনপি দলীয় সন্ত্রাসী পোটল তার মহিলা সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা মারধর করে, ফাঁপোড় এলাকায় আমার কর্মী নেছার উদ্দিনকে বি এন পি দলীয় সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া সমগ্র আসনে আমার ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলে ধানের শীষ মার্কার ব্যানার টাঙ্গিয়েছে। বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক প্রতিনিয়ত নানা ধরনের আচরণ বিধি লঙঘন করে আসছে। তার বিরুদ্ধে আমি এ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার এবং অনুসন্ধান ও বিচারিক জজ সাহেবের নিকট মোট ১৫টি অভিযোগ দাখিল করেছি। প্রত্যেক অভিযোগের সাথে সচিত্র ভিডিও আছে। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত একটি অভিযোগের বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনির।
এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমার পূর্বের আশংকাই প্রতিফলন হতে যাচ্ছে- তা হলো আবার বগুড়ায় মাগুরা মার্কা নির্বাচন করা। ইতিমধ্যে আমি শুনতে পাচ্ছি যে, বিএনপি দলীয় প্রার্থী গোটা বগুড়া জেলা থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ভোটের দিন কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট ডাকাতি করবে।
এমতাবস্থায় বগুড়া সদরের নির্বাচন সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে আমার দাবী হচ্ছে-
১. আচরণ বিধি লংঘনের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার।
৩. নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে সি.সি ক্যামেরা বসানো।
৪. দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল এবং
৫. নির্বাচনের আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটের দিন সেনাবাহিনীসহ অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োগ করা।” তিনি আসন্ন উপ-নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত প্রার্থী বলেন, দাঁড়িপাল্লার ভোটারদের ভয়ভীতি এবং হুমকি-ধামকীর মাধ্যমে পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
বগুড়ার উপনির্বাচনে তারা জিততে পারবেনা এটা টের পেয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে। তারা মাগুরা স্টাইলে বগুড়ার উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে চায়। প্রশাসনকে বারবার বলঅর পরেও যেহেতু কোন প্রতিকার হচ্ছেনা, সেহেতু ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আ.স.ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুল হালিম বেগ, আব্দুস ছালাম তুহিন, আজগর আলী, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া, নুরুল ইসলাম আকন্দ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com