এফ শাহজাহান :
রাত পোহালেই ভোট। জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন। বগুড়ায় অপেক্ষা করছে ইতিহাসের কলঙ্কিত বিএনপি জামানার সেই মাগুরার উপনির্বাচনের ভোট ডাকাতির করুন পরিণতি। বগুড়ার উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে জেতানোর জন্য ব্যাপক কারচুপি ও ভোট-ডাকাতির আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এবার বিএনপির প্রার্থীকে যে কোন মুল্যে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনতে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ধানের শীষের পক্ষে মিছিল নিয়ে মাঠে নেমেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। বিএনপির ক্যাডারদের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৯ এপ্রিল ৪১, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে মাগুরার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল করছেন সরকারী হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মকার্ত কর্মচারীরা। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দলীয় প্রভাব কাজে লাগানো হয়েছে। বিএনপির দলীয় ক্যাডারদের হাতে চলে গেছে ভোটগ্রহনের সব দায় দায়িত্ব।
আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি পহ্নী কর্মকর্তাদের প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রিজাইডিং অফিসার জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত।
অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে রয়েছেন জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিয়াজ মো. নাসির। অগ্রণী ব্যাংক নিশিন্দারা শাখার সিনিয়র অফিসার শরিফুর রহমান। রূপালী ব্যাংক, কলোনী বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার পরেশ কুমার দাস । অগ্রণী ব্যাংক, সুলতানগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল করিম।সোনালী ব্যাংক, কলেজ রোড শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার রফিকুল ইসলাম। জনতা ব্যাংক, চাঁদনী বাজার শাখার সিনিয়র অফিসার আরিফ উদ্দিন খান। জনতা ব্যাংক, গোদারপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার ইসমাইল হোসেন। অগ্রণী ব্যাংক, খান্দার শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার রিজওয়ান রহমান । আব্দুল্লাহ আল শাফি-সিনিয়র অফিসার, সোনালী ব্যাংক, বগুড়া নর্থ শাখা, মঞ্জুর রহমান প্রিন্সিপাল অফিসার, জনতা ব্যাংক, এরিয়া অফিস, বগুড়া , রাশেদুর রহমান-সিনিয়র অফিসার, সোনালী ব্যাংক, বগুড়া নর্থ শাখা। আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রভাষক সাদু মিয়া। এস. এম. সোফেন রানা-সহকারী অধ্যাপক, বাংলা, আজিজুল হক কলেজ এবং আর সাইদ-সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, আজিজুল হক কলেজ।
অভিযোগে বলা হয়, দলীয়ভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনী দায়িত্ব দিলে ভোটের নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হতে পারে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোাগ প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, তারা আগেও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রে যদি কোন অনিয়ম করেন তাহলে তখন সেটা দেখা যাবে।
বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে সরকাররি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচার মিছিল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি।
নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। বগুড়া -৬ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার পক্ষে ভোটের প্রচারনার অংশ হিসেবে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয়তাবাদী ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যানারে ২৫০ শয্যার বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি প্রচার মিছিল শুরু হয়।
ওই মিছিলটি হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে শেরপুর রোড (বনানী-মাটিডালী রোড) ধরে শহরের সাতমাথা ঘুরে আবারও মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।
মিছিলে অংশ গ্রহনকারীদের মধ্যে ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক ) এর নাক কান গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াহেদ. একই কলেজের এনেস্থিসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন হায়দার রাসেল, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অফিস সহকারী মো: রেজাউল করিম, অফিস সহায়ক ( পিয়ন) তরু ও লয়া মিয়া, গাড়ী চালক জাহিদুল সহ শজিমেক হাসপাতাল ও মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নার্স জানান, বদলী বা চাকুরীচুতির ভয় দেখিয়ে কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি মিছিলে যোগ দিতে বাধ্য করেছে। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
Leave a Reply